বালিয়াকান্দিতে ধান কর্তন নিয়ে বিপাকে বোরো চাষিরা - Bangla News 24 Online

BANGLA NEWS 24 ONLINE বাংলা নিউজ ২৪ অনলাইন। Bangla Newspaper বাংলা নিউজ পেপার - BD News 24, BD News Today and Banlga News Today ||

Breaking

Home Top Ad

Thursday, May 28, 2020

বালিয়াকান্দিতে ধান কর্তন নিয়ে বিপাকে বোরো চাষিরা

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ক্ষেতে ধান পেকে আমফানের প্রভাব ও নিন্মচাপের কারণে পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। ধান কর্তন করতে না পেরে কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। 

স্টাফ রিপোটৃার ॥ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ক্ষেতে ধান পেকে আমফানের প্রভাব ও নিন্মচাপের কারণে পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। ধান কর্তন করতে না পেরে কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

ধানচাষী রুস্তম শিকদার, আজিজ মন্ডল, মান্নান শেখ নাছির শেখ বলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বারুগ্রাম, নতুনচর, বারিকগ্রাম, বাঘুটিয়া, পাটুরিয়া, জামালপুর ইউনিয়নের তুলশী বরাট, মাশালিয়া, লক্ষণদিয়া, কুমোদদিয়া, নটাপাড়া, গোবিন্দপুর এলাকায় বোরো ধানের আবাদ বেশি হয়। ধান ক্ষেতে পাক ধরেছে। হঠাৎ করেই আমফানের তান্ডবে ক্ষেতের ধান মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। কয়েকদিন বৃষ্টির ফলে ধান ক্ষেতে পানি জমে পাকা ধান নষ্ট হচ্ছে। শ্রমিক সংকট ও ধান ঘরে তোলার একমাত্র রাস্তাটিতে কাদা-পানিতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক ক্ষেত থেকে ধান কর্তন করে ৩-৪কিলোমিটার পথ ঘুরে ধান ঘরে তুলছেন। আবার কেউ পলিথিনের ভেলায় ধান সাজিয়ে পানিতে ভাসিয়ে পাকা সড়কে তুলছেন। 

সিদ্দিক শেখ, লিয়াকত সিকদার, বাসুদেব দাস, মজিদ শেখ বলেন, ধান রোপন করতে চাষ, চারা, রোপন, সার, কীটনাশক, আগাছা পরিস্কার ও ঘরে তোলা পর্যন্ত হেক্টর প্রতি খরচ হয় ১লক্ষ ১হাজার টাকার মতো। এ বছর হেক্টর প্রতি সাড়ে ৫ মেট্রিক টন উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ধানের যে বাজার মুল্যে রয়েছে তাতে হেক্টর প্রতি খরচ পুশিয়ে ১৪-১৫ হাজার টাকা লাভের মুখ দেখতে পাবো।

বারুগ্রাম ব্লকের বিএডিসির ডিপ টিউবয়েল ( গভীর নলকুপ) ম্যানেজার শ্যামল কুমার দাস বলেন, মাঠ থেকে ধান ঘরে তোলার একমাত্র রাস্তাটি এ মৌসুমে প্রতিবছরই চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় অনেক ধান চাষী উৎপাদন খরচ পোশাতে না পেরে জমি অনাবাদি রেখেছেন। অনাবাদি জমি রয়েছে প্রায় ৯ হেক্টর। আবার কেউ কেউ কষ্ট লাঘব করতে ধানের জমিতে অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন করছেন। ফলে দিন দিন ধান চাষের জমি হ্রাস পাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন বাঘুটিয়া মাঠের ধান ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার সাখাওয়াত হোসেনসহ কৃষি কর্মকর্তারা।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ এলাকার চাষীরা ফলন অধিক ফলনের আশায় ২৯ ধান চাষের উপর বেশি ঝোকে। এ ধান পাকতে দেরী হয়। একারণে তাদের প্রতি বছরই ঝুকির মুখে পড়তে হয়। জোয়ারের বিলের খাল একমাত্র পানি নিষ্কাশনের পথ। খাল ঘেষে অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন করায় এবং অবৈধ ভাবে মাছ শিকারের উদ্দেশে বাঁধ দেওয়ায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। আমরা অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেছি।
তিনি আরো বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫শত ২০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। আমফানের ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী করা হয়েছে।
 উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, খাল বৈদখল হয়ে আছে, দ্রুত খাল উদ্ধারে ও খননের ব্যবস্তা এবং রাস্তা সংস্কার করার ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

No comments:

Post a Comment