কৃষকের নতুন স্বপ্ন তোহামনি ধান ফলন শতকে ১ মন - Bangla News 24 Online

BANGLA NEWS 24 ONLINE বাংলা নিউজ ২৪ অনলাইন। Bangla Newspaper বাংলা নিউজ পেপার - BD News 24, BD News Today and Banlga News Today ||

Breaking

Home Top Ad

Monday, November 2, 2020

কৃষকের নতুন স্বপ্ন তোহামনি ধান ফলন শতকে ১ মন

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ইমদাদুল হক ইন্তা নামের এক কৃষক ভিন্ন জাতের নতুন এক ধান চাষ করে সফলতা পেয়েছেন।

বসির আহাম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ইমদাদুল হক ইন্তা নামের এক কৃষক ভিন্ন জাতের নতুন এক ধান চাষ করে সফলতা পেয়েছেন।


তার নতুন জাতের এ ধান এলাকায় কৃষকদের মধ্যে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। প্রতিদিন এলাকার কৃষকরা তার ধান দেখতে আসছে। বিজাতীয় ধানের সাথে অন্য জাতের ধানের পরাগয়ানের মাধ্যমে নতুন জাতের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন বলে দাবি করছেন ওই কৃষক। 

তার সংরক্ষিত নতুন জাতের এ ধানের নাম দিয়েছেন তোহামনি। তোহামনির ফলন দেশে চাষ হওয়া অন্য জাতের থেকে বেশি বলেও দাবি করেছেন এই কৃষক। চলতি আমন মৌসুমে তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে এই ধান চাষ করেছেন। এছাড়া একই এলাকার আরো দুই কৃষক দেড় বিঘা জমিতে এ নতুন জাতের ধান চাষ করেছেন। এর আগে গেল বছর ইরি বোরো মৌসুমে ৯ শতক জমিতে তোহামনি ধানের চাষ করে ১০ মন ৭ কেজি ধান পেয়েছিলেন। 

সেখান থেকে একমন ধানের বীজ রেখে বাকি ধান চাল করে খাচ্ছেন। ইমদাদুল হক কালীগঞ্জ উপজেলার মেগুরখিদ্দা গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মন্ডলের ছেলে। কৃষক ইমদাদুল হক আগে পেশায় সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী ছিলেন। কৃষক ইমদাদ  স্বপ্ন দেখছেন তার ধান ছড়িয়ে যাবে সারা বাংলাদেশের কৃষকদের মাঝে। 

কৃষক ইমদাদুলের দাবি, তিনি পরাগায়নের মাধ্যমে বিজাতীয় ধান থেকে নতুন জাতে ধান উদ্ভাবন করেছেন। কিন্তু স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি নিয়ম না মেনে কৃষক পর্যায়ে পরাগয়ানের মাধ্যমে ধানের জাত পরিবর্তন একেবারেই অসম্ভব। ধানের জাত উন্নয়ন করতে হলে বৈজ্ঞানিক কিছু প্রক্রিয়া আছে যা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে হয়। কৃষক ইমদুদুল হক জানান, তার উদ্ভাবিত ধানের আকার মাঝারী চিকুন। 

একটি ধানের শীষে ৪২০ থেকে ৪৫০ টি ধান হয়। এরমধ্যে ৬০ থেকে ৮০টি ধান অপুষ্ট হয়ে থাকে। কিন্তু দেশে চাষ হওয়া অন্য জাতের ধানে ২৫০ থেকে ৩০০টি ধান থাকে। এছাড়া তোহামনি ধান গাছের উচ্চতা মৌসুম ভেদে সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার ফুট উচু হয়ে থাকে। ইরি মৌমুমে এই ধানের জীবনকাল ১৫০ দিন এবং আমন মৌসুমে ১২০ থেকে ১৩০ দিন। 

কৃষক ইমদাদুল হক আরো জানান, ২০১৫ সালের কথা। আমার ধানের ক্ষেতে বিজাতীয় একটি ধান গাছ থেকে ছয়টি ধানের শীষ সংগ্রহ করি। পরে সুবল লতা ধানের সাথে ৪০ গোছ ধানের চারা রোপন করে পরাগয়ানের পর আবার সংগ্রহ করি। পরের বছর বাসমতি ধানের আবার ৪০ গোছ ধানের চারা রোপন করে সংগ্রহ করেন। 

এরপরের মৌসুমে এক গোন্ডা জমিতে এই ধানের চারা রোপন করে বীজ সংগ্রহ করি। ২০১৯ সালে ইরি বোরো মৌসুমে ৯ শতক জমিতে ধান রোপন করেন। এই জমিতে ১০ মন ৭ কেজি ধান পান। চলতি আমন মৌসুমে সেই বীজ থেকে সাড়ে তিন বিঘা জমি চাষ করেছেন। দু’এক দিনের মধ্যে ধান কাটবেন। মাঠে চাষ হওয়া অন্য ধানের থেকে আমার ধানের শীষ বড়, ধানও বেশি। সবার আগে পাক ধরেছে। আশা করি ৩৩ শতকের বিঘা জমিতে ৩০ মন ধানের বেশি হবে।

 গ্রমের সাবেক ইউপি সদস্য আক্তারুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর ধরে ইমদাদুল হক এই ধান নিয়ে কাজ করছেন। এলাকার কেউ তাকে ধান গবেষক বলে রহস্য করতো, কেউ আবার পাগলও বলতো। কিন্তু গেল ইরি মৌসুমে তার ধান দেখে সবাই অবাক। চলতি মৌসুমে সবাই তার ধান দেখতে আসছে। এখন সবাই তার ধান বীজ নেওয়া জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। 

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস অফিসার শিকদার মোঃ মোহায়মেন আক্তার জানান, আমি সংবাদ পেয়ে তার ধান ক্ষেত দেখতে গিয়েছিলাম। জমিতে নিয়ম মেনে চারা রোপন বা সার কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়নি। তারপরও তার ধান চাষ সন্তোষজনক। ধানের শীষে যে পরিমান ধান রয়েছে তাতে ফলনও সন্তোষজনক হবে মনে করছি। কিন্তু জাত উন্নয়নের দাবি নিয়ে কিছু বলতে পারবো না। 

বাংলাদেশ কৃষি ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা আছেন, নিয়ম মেনে চাষ করছে তারা পরবর্তি মৌসুমে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বলতে পারবেন জাত উন্নয়ন হয়েছে কিনা বা আদৌ জাত উন্নয়ন সম্ভব কি না। আর কৃষক যে দাবি করছে তার নিজের উদ্ভাবিত সেটা তার নিজের  । তবে কৃষি অফিসার শিকদার মোহাম্মদ মোহায়মেন আক্তার জানান, আগামী বোরো মৌসুমে কৃষি অফিস থেকে একটি প্রদর্শনী প্লট করে এই ধানের পর্যবেক্ষণ করা হবে।

No comments:

Post a Comment