কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবার মান বেড়েছে ॥ হাসপাতালমুখি হচ্ছে রোগীরা - Bangla News 24 Online

BANGLA NEWS 24 ONLINE বাংলা নিউজ ২৪ অনলাইন। Bangla Newspaper বাংলা নিউজ পেপার - BD News 24, BD News Today and Banlga News Today ||

Breaking

Home Top Ad

Saturday, March 6, 2021

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবার মান বেড়েছে ॥ হাসপাতালমুখি হচ্ছে রোগীরা

 কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবার মান বেড়েছে ॥ হাসপাতালমুখি হচ্ছে রোগীরা

বসির আহাম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দিনদিন স্বাস্থ্যসেবায় এগিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালমুখি হচ্ছে রোগীরা। হাসপাতালে চিকিৎসার মান ভালো হওয়ায় সব শ্রেণির মানুষ এখন হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসাসেবায় এমন পরিবর্তন হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার শামীমা শিরিন’র অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে। 


শামীমা শিরিন কালীগঞ্জে যোগদানের পর থেকে স্থানীয় চিকিৎসা সেবায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। মাত্র এক বছরে স্থানীয় রোগীদের হাসপাতালমুখি করেছেন। হাতপাতালের উন্নয়নেও এনেছেন ব্যাপক পরিবর্তন। হাসপাতালের প্রসূতী, গাইনী এবং সার্জারী বিভাগের অপারেশন নিয়মিত করণ, কমপ্লেক্সের সামনে নতুন গেট নির্মাণ, বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন, হাসপাতালে ফ্লু কর্ণার স্থাপন, সৌন্দর্য বর্ধনে বাগান তৈরি, দর্শনার্থীদের জন্য ওয়েটিং রুম তৈরি, মেডিকেল অফিসারদের জন্য দুটি কোয়াটার মেরামত ও ডেন্টাল ইউনিটের জন্য নতুন যন্ত্রপাতি কেনাসহ নানা উন্নয়ন মূলক কাজ করেন। এখন আর মানুষ বেসরকারী হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোতে যেতে চায় না কেউ । ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন তিনি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই নারী চিকিৎসক। তার স্বামী আব্দুল্লাহিল কাফি একজন ডাক্তার। একমাত্র সন্তানকে বাড়ি রেখে দিন-রাতের অধিকাংশ সময় মানব সেবায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। করোনা রোগীদের সেবায় কাজ করতে গিয়ে তিন তিন বার করোনা পজেটিভ হয়েছে। করোনা পজেটিভ হলেও আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টাইনে থেকেও রোগীদের সেবা ও হাসপাতালেল অফিসিয়াল কাজ করেছেন। স্বামী সন্তানকে আলাদা রেখে মানুষের সেবাই কাজ করেছেন। কাজের প্রতি তাদের কর্তব্যনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ, একাগ্রতা, ধৈর্য্য ও সাহসিকতা অতুলনীয়।

ইতিমধ্যে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবাদানে সারা বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কালীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা পর্যালোচনায় ২০২০ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে সারা দেশের মধ্যে সার্বিক স্বাস্থ্য সেবায় ১৩ তম ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১১ তম স্থান পায় হাসপাতালটি। তিনি যোগদানের আগে হাসপাতালের এক্সরে মেশিন, আল্ট্রাসনো, ইসিজি ছিল অকেজো। তিনি এগুলোকে মেরামত করে সচল করেছেন। নির্ধারিত সরকারি ফিস এর মাধ্যমে জনগণকে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করে আসছে। হাসপাতালটিতে কোন রেডিওলজিষ্ট ছিল না। এ পদে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও সেখানে তিনি ১৫ জন চিকিৎসক ও ২২ জন নার্সের পদ থাকলেও ১৯ জন নার্স দিয়ে চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে কাজ করছেন।কালীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা করা হয়ছে প্রায় ৮ হাজার জনের। ফলে রোগী বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়েই বেড়েছে ব্যস্ততা ও কাজের পরিধি। এরমধ্যে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিক দেখতে হয়। ফলে অবিরাম পরিশ্রমের ফলে শারীরিকভাবে কাতর হলেও মনের জোরটা এখনো ধরে রেখেছেন।কালীগঞ্জের বানুড়িয়া গ্রামের পলি খাতুন নামের এক রোগি বলেন, আমি ৩ দিন হলো হাসপাতালে এসেছি। আগের থেকে এখন সেবার মান অনেক উন্নত হয়েছে। হাসপাতালটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। এখানে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যরা খুবই আন্তরিক ভাবে সেবা দিচ্ছে। কালীগঞ্জ শহরের পৌর এলাকা থেকে আশা  হরেন্দ্রনাথ নামের এক ব্যক্তি বলেন, ১ বছরের ব্যবধানে হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবার মান অনেক পাল্টেছে। আগে ঔষধ পাওয়া যেত না। এখন ঔষধ পাওয়া যায়। আগে যেখানে সিজার করা হতো না এখন সিজার করা হচ্ছে। এমন নানা সেবা শুরু হয়েছে এই হাসপাতালের। কালীগঞ্জের মানুষ ক্লিনিকে না গিয়ে এখন হাসপাতালে সেবা নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শামীমা শিরিন জানান, আমরা চেষ্টা করছি উপজেলার মানুষকে ভালো স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দিতে। আগামিতে হাসপাতালটি মডেল করতে কাজ করছি। ডাক্তার শামীমা শিরিন আরও বললেন, চাকুরি বলে নয়, মানবিক কারণে কাজ করে যাচ্ছি। এখান থেকে পিছু হটার সুযোগ নেই। মানবসেবার ব্রত নিয়েই এ পেশায় আত্মনিয়োগ করেছি।


No comments:

Post a Comment